৳ 250.0

In Stock
  • ধরন:                            ভ্রমন
  • প্রথম প্রকাশ :             অমর একুশে গ্রন্থমেলা  ২০১৮
  • প্রকাশনী:                    সাহিত্যদেশ
  • ভাষা:                           বাংলা

 

Order By A Call: 01733001160 Or 01733001162.

SKU: DSB1902

Description

বই:                              কেরালা : সৌন্দর্যের দেবী

লেখক:                        ইমন চৌধুরী

ধরন:                            ভ্রমন
প্রথম প্রকাশ :             অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬

প্রকাশনী:                    সাহিত্যদেশ
দেশ:                            বাংলাদেশ
ভাষা:                           বাংলা

ISBN: 978-984-91940-5-7

 

বইয়ের কিছু অংশ:   কেরালা : সৌন্দর্যের দেবী

আত্মকথন

২০১০ সাল। নভেম্বর মাস। ততদিনে ব্যাংকের চাকুরী থেকে অবসর। পুরোপুরি

ঝাড়া হাত-পা। ২০০৮ সালের শেষ দিনটিতে অবসর হয়ে পরের বছরই ২০০৯

সালের মার্চ মাসে একবার ভ্রমণে বের হয়েছিলাম। সাথে ছিল স্ত্রী লিলি রায় ও

ছোট ছেলে প্রতীক চন্দন রায়। সেবার বাংলাদেশ থেকে ট্রেনে কলিকাতা, সেখান

থেকে শিলিগুড়ি-নিউ জলপাইগুড়ি-দার্জিলিং-শিলিগুড়ি-আগ্রা-কলকাতাবাংলাদেশ ভ্রমণ ছিল। কিন্তু সেবার বই লেখার কোন প্রস্তুতি ছিলনা বিধায় বই

লিখা যায়নি।

এর পরের বছর ২০১০ সালে ভারতের দক্ষিণের এলাকায় ভ্রমণের মনস্থ করি।

এ বছরের নভেম্বর মাসে ভারতের দক্ষিণে ভ্রমণের কারণ এ অঞ্চলে প্রচন্ড গরম

পড়ে এখানে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যখন এপ্রিল মাসে একবার চেন্নাইয়ের

ভেলোর যাই স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তখন দেখেছি সকাল বেলায় পূর্বদিকে যেন

একটি জ্বলন্ত থালার ন্যায় সূর্য ওঠে একেবারে অগ্নিকুন্ড হয়ে। সারাদিন প্রচন্ড

রোদ ঝাঁঝিয়ে তবেই বেলা ডোবে। এই রোদ সরাসরি গায়ে লাগলে যেন

শরীরের চামড়া পুড়ে যায়, যেমন সারাদিন পুড়তে থাকলে কয়লা হয়ে যাবে আর

কি। এজন্য মনে হয় এ এলাকার মানুষেরা কালো চামড়ার হয়ে থাকে।

নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে তখনো শীতের আগমন ঘটেনি ভালোমত, শীত

আসি আসি করছে। এমন সময়ে ভারতের দক্ষিণে ধীরে ধীরে শীত পড়বে তাই

সময়টি এই এলাকায় ভ্রমণের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত মনে করে ভ্রমণে বের

হয়েছি। আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ আর কি। এবার সাথে ছিল আমার স্ত্রী লিলি

রায় ও বড় ছেলে প্রীতম কিশোর রায়। ছেলে তখন মিলিটারী ইনষ্টিটিউট অব

সায়েন্স এন্ড টেকনোলজীতে লেকচারার পদে চাকুরী করছে। আমরা এক সকালে

ট্রেনে করে ঢাকা থেকে কলিকাতা রওয়ানা দিলাম। সাথে ভ্রমণের যাবতীয়

প্রস্তুতি নিয়েছি। উলে­খ করা যায় যে, ইন্টারনেট ঘেঁটে কলিকাতা থেকে

কেরালা বা দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের এলাকাগুলোয় ট্রেনে যাতায়াতের ট্রেনের নাম,

মাঝের স্টেশনগুলির অবস্থান, দূরত্ব, কোন কোন স্টেশনগুলিতে থামে, কতক্ষণ

থামে, ট্রেন ভাড়া কত ইত্যাকার তথ্যগুলি আগেভাগেই সংগ্রহ করে কপি করে

নিয়েছি। এমন কি কোথায় কী কী খাবার পাওয়া যায়, দোকানের নাম ধাম সবই

যেন মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। কলকাতায় গিয়ে একদিন থেকে এজেন্টের মাধ্যমে

টিকিট কেটে ভারতের সর্ব দক্ষিণাঞ্চল কন্যাকুমারীর টিকিট কাটলাম এবং এক

সন্ধাবেলায় কলকাতায় ট্রেনে চেপে বসলাম।

ভারতের ট্রেন ভ্রমণ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সুবিধাজনক ব্যবস্থায়। প্রতি ট্রেনে

অনেকগুলি করে বগি থাকে কমপক্ষে পনের থেকে বিশটি তো হবেই। প্রতি লং

জার্নি ট্রেনে শোয়ার বাথ থাকে। বাংলাদেশের ট্রেনে যেমন বসার সিটে মুখামুখি

যাত্রীগণ বসে, এই জায়গাতেই ভারতের ট্রেনেগুলোতে উপর-নিচ মিলে মুখোমুখী

তিনটি করে ছয়টি বাথ থাকে যাতে ছয়জন সারারাত ঘুমোতে পারে। আবার

পাশের প্যাসেজে ওপরে একটি ও নিচে একটি মিলে আরো দু’টি বাথ থাকে

আরো দু’জনের জন্য। এভাবে আসন বিন্যাসে প্রতিটি স্পেসের পূর্ণ সদ্ববহার

হয়ে থাকে।

আমরা যথারীতি নিজ নিজ আসন নিয়েছি। একপাশের আসনের ওপর থেকে

নিচ পর্যন্ত তিনটি বাথ। সর্বওপরের আসনে ছেলেকে উঠিয়ে দিয়ে মাঝের

আসনে স্ত্রীকে দিয়ে নিচের আসনে আমি নিজে শুয়ে থাকলাম। ট্রেন যথারীতি

রওয়ানা দিল। কলিকাতা ছেড়ে কলিকাতার শেষ সীমানা খড়কপুর জংশন পার

হচ্ছি। আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখতে দেখতে চলেছি।

সৌভাগ্যক্রমে তখন পূর্ণিমার পর রাত ছিল। খুব বেশিদেখা না গেলেও বাইরের

রাতের আবছা আঁধারে অনেক কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম বেশ স্পষ্টতই। ভাবলাম

দেশ দেখার যে লালিত মনের ইচ্ছা তা কিছুটা হলেও পূরণ হচ্ছে।

সুনসান নীরবতার মাঝে শুধু ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ কানে

আসছে না। পাশের বাথের লোকজন কেউ কেউ নাক ডাকা ঘুম ঘুমিয়ে যাচ্ছে।

কেবল আমার চোখে ঘুম আসছেনা। এলাকা দেখার স্পৃহায় ও মনের উত্তেজনায়

আমি বরাবর বাইরে তাকিয়ে আছি। দেখছি ভারতের না দেখা অঞ্চল। মাঝে

মাঝে কাগজ খুলে দেখছি কোন স্টেশনে ট্রেন এলো। টাইম মিলিয়ে দেখছি যে

সময়ে সেই স্টেশনে পৌঁছার কথা তা মিলল কিনা। কিন্তু আশ্চর্য প্রায় সময়মতই

পৌঁছে যাচ্ছে। যথানিয়মে বিরতি নিয়ে ট্রেন আবারো চলছে। এ যেন নিত্য

ঘটনা।

আমি নিজে সিগারেট পান করি নিয়মিত। আমি জেনে গেছি ভারতে ট্রেনে

ধূমপান নিষিদ্ধ। ভারত যাওয়ার সময় কমপক্ষে দশ প্যাকেট সিগারেট সাথে

নিয়ে গেছি। সিগারেটের তেষ্টা তো আর দমিয়ে রাখা যায়না। কলিকাতায়

সিগারেট পান কোন ব্যাপার নয়। কিন্তু ট্রেনে এর ব্যবহার করতে পারব কি না

কেরালা : সৌন্দর্যের দেবী  ১৩ ১৪  কেরালা : সৌন্দর্যের দেবী

বা কিভাবে করব তা ভেবে পাচ্ছি না। এক সময় তিষ্টাতে না পেরে হাতে

সিগারেট ও দিয়াশলাই নিয়ে উঠে পড়লাম। ট্রেনের বগির শেষ প্রান্তে

পৌঁছালাম, দেখলাম সেখানে এক ব্যক্তি একটি টুলে বসে রয়েছে। চেহারায় মনে

হলো বাঙালি নয়। ইংরেজিতে তাকে বলার চেষ্টা করলাম ‘আই লাইক টু স্মোক

এ বিট। কুড ইউ এলাউ মি ইফ ইউ প্লিজ!’ আমি মনে করেছিলাম হয়তো বা

সে রেগে গিয়ে আমাকে সিটে চলে যেতে বলবে। কিন্তু তার অভিজ্ঞতায় সে

বলল, ‘ইট ইজ প্রহিবিটেড! আই কুড আন্ডারস্ট্যান্ড ইউ আর ফরেইনার। ইট

ইজ নাউ মিড নাইট! ইউ মে হ্যাভ ইট অনলি ইনসাইড দি বাথরুম, নট

এলস্হোয়ার, বি কুইক!’। আমি যেন হাতে আকাশের চাঁদ পেলাম। সিগারেট

খেকোদের সিগারেট পান না করলে যে কি অবস্থা হয় যারা সিগারেট পান করে

তারাই কেবল তাদের অবস্থা বুঝতে পারে। হাঁড়িতে ভাতের ব্যবস্থা না থাক কিন্তু

সিগারেটের টাকা ভুতে জোগায় এ প্রবাদটি সকলের জানা। যাহোক, মনের সুখে

সুখটান দিয়ে চলেছি টয়লেটের ভেতর। যদিও বা কিছুটা দূর্গন্ধ নাকে এসে

লাগছে তবুও এ যেন বিষম সুখানুভ‚তি।

এগিয়ে চলেছি গন্তব্যের পথে রাতের বুক চিরে। ট্রেন হাপুস হাপুস করে

অন্ধকারে চলেছে যেন অজানার পথে। আমার চোখে ঘুম নেই। আমিও রাতের

সৌন্দর্য উপভোগ করছি, দেখছি পাশের উঁচু-নীচু টিলা, ছোটখাট পাহাড় যেন।

কখনো বা টিলা কেটে রেল লাইন করা লাইন দিয়ে ট্রেন যায় যেন পাহাড়ে ধাক্কা

লেগে পড়ে যাবে। কোথাও বা দেখা যায় দূর টিলায় বিদ্যুতের আলো। কোথাও

বা টিলার উপরে বসতি, চাঁদের আলোয় দেখা যায় সাদা রঙএর পাকা ঘরবাড়ী।

মাঠ সমতল, কোথাও কোন ফসল নেই। শুধুমাত্র কিছু বিশেষ ধরণের গাছ

উচ্চতায় ১৫-২০ ফুট এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। রাতের বেলায় এই

গাছ চিনতে পারলাম না। মনে করলাম দিনের আলো ফুটলে বোঝা যাবে।

ট্রেন একে একে উড়িষ্যা, অন্ধ্র প্রদেশ, চেন্নাই স্টেশনে দাঁড়ালো। এখানে আধা

ঘন্টা ট্রেন দাঁড়াবে। ইঞ্জিন পরিবর্তন হবে। ট্রেনের বাথরুম ভালোভাবে ওয়াশ

হবে ও বীজানুমুক্ত করা হবে জানতে পারলাম। অতঃপর নেমে পড়লাম

প্লাটফর্মে ভাল কিছু খাবারের অন্বেষণে। ট্রেন থাকতে ট্রেনের শেফ প্রতিটি

প্যাসেঞ্জারের নিকট থেকে খাবার মেনু নিয়ে খাবার সরবরাহ দেয়। সেখানে

রুটি পরাটা, ডিম, দক্ষিণ ভারতের খাবার ইডলি দোসা, কলা ও চা ছাড়া অন্য

কিছু পাওয়া যায় না। এখন যদি কিছু ব্যতিক্রম খাবার পাই তাহলে বর্তে যাই।

নেমে পড়লাম প্লাটফরমে। স্টেশনের ভেতরে অনেক খাবারের দোকান।

বিরানীর প্যাকেট সংগ্রহ করলাম তিন প্যাকেট। প্যাকেট খুলে খাওয়ার সময়

দেখলাম আমাদের বাংলাদেশের মত বিরানী। ছোট ছোট করে পিছ করা মুরগীর

মাংসের সাথে উন্নত মানের চাউলের পোলাও। বেশ ভালই হবে মনে করে

সংগ্রহ করলাম। সাথে কিছু জুস ও সফট্ ড্রিংকস্ নিলাম। প্লাটফরমে নেমে

দেখলাম কোথাও কোন দোকান নেই যেখানে কিছু সওদা পাওয়া যায়। তবে

প্লাটফরমে ভ্যানের মত যানে কিছু খাবারের জিনিষ ফেরি করে কতক মানুষ

যেখানে মানুষ খাবার কেনে। আমিও এখানে কয়েকটা পরোটা, ৪/৫টা ডিমের

মামলেট কিনলাম। আরো দেখলাম এক ধরণের কলা যার খোসাটা লাল

রংয়ের। এটা আবার কোন ধরনের কলা সেটার আস্বাদ পেতেই কেনা কাটা

করলাম। প্লাটফরমে প্রতিটি খাম্বার সাথে দু’টি করে পানির ট্যাপ রয়েছে

দেখলাম। এর একটি গরম পানি ও অপরটি ঠান্ডা পানি। ট্রেনের লোকজন

বোতলে করে পানি নিয়ে যাচ্ছে যার যার ইচ্ছেমত।

ট্রেন এগিয়ে চলছে। কর্ণাটক রাজ্যের ভেতর দিয়ে চলছি। বিকেল বেলার জার্ণি।

ছোটবড় টিলাগুলি শা শা করে পেছন দিকে দ্রæত ধাবমান। কোথাও বড় ব্রিজ

পার হচ্ছি আবার কোথাও সুরঙ্গের ভেতর দিয়ে চলছি। ট্রেন যেন সবকিছু ফুঁড়ে

ভেদ করে এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে।

এ পর্যন্ত জার্ণিতে লক্ষ্য করলাম ট্রেনের পথে কোন বিশাল নদী আমার

দৃষ্টিগোচর হয়নি। পাশের মাঠ প্রায়ই জনশূন্য ও বিরান। ফসলের আবাদ দেখা

গেল না একেবারেই। মাটি কালো শক্ত পাথরের ন্যায় বলে মনে হল। তবে

বির্স্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এক ধরণের গাছ দেখলাম কোন ফলবান গাছ নয় এক

ধরণের জংলী গাছ। পরে জানলাম ছোট ছোট পাতার এই গাছ জমির উর্বরা

শক্তি বৃদ্ধির জন্য রোপণ করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এই জমি চাষযোগ্য হয়।

এই এলাকায় পানিই একমাত্র বড় অভাবের বস্তু বলে মনে হল।

পরের দিন সকালে কেরালার রাজধানী থিরুভনন্থপূরমে পৌঁছালাম। এই ট্রেনের

জার্ণি এখানেই শেষ। এখান থেকে ট্রেন বদল করে কন্যাকুমারী যেতে হবে।

ট্রেনের তিন ঘন্টা দেরী রয়েছে। সমগ্র ট্রেনের জার্ণিতে যাত্রীগণ ট্রেনের

বাথরুমে গোছল করে। আমি গোছল না করাতে বেশ অস্বস্তি লাগছিল।

থিরুভানন্থপূরমে নেমে দেখলাম সেখানে গোছলের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্লাটফরমের বাথরুম গোছলের জন্য পাঁচ রুপি। আমি সেখানে গোছল সেরে

নাস্তাপানি করে পরবর্তী ট্রেন ধরার জন্য প্রস্তুত হলাম। ট্রেন এসে গেলে

কন্যাকুমারীর উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। থিরুভানন্থপূরম থেকে কন্যাকুমারী

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “কেরালা : সৌন্দর্যের দেবী – ইমন চৌধুরী”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Conditions:

  • Cash On Delivery And Bkash/Rocket Online Payment Available. Please See Details Here.
  • DELIVERY CHARGES Inside Dhaka Metro 49 Tk, Outside Dhaka Metro 99 Tk (If Customer Choose SA Poribohon In Outside Dhaka Metro Then Cost Will Be 120 Tk). For More Info Please Click Here.
  • If You Want To Pay Cash On Delivery Outside The Dhaka Metro, You Will Have To Make Payment Advance 200 / - Taka By Bakash / Rocket.
  • In Outside Dhaka Metro Delivery, Customers May Have To Collect Their Products From The Nearby Courier Service Office.
  • Estimated Delivery Time For Inside Dhaka Metro - 1-2 Working Days And For Outside Dhaka Metro - 2-3 Working Days.
  • Product Delivery May Be Delayed Due To Any Natural Disaster Or Any Other Political Unrest.
  • Please Check Size & Color Before Placing Order.
  • Product Delivery Duration Depends On Product Availability In Stock.
  • The Actual Color Of The Physical Product May Slightly Vary Due To The Deviation Of Lighting Sources, Photography Or Your Device Display Setting.
  • Please Read The Return And Exchange Page Thoroughly Before Requesting A Return Or Exchange For Your Purchased Products.
  • For Any Other Query Please Contact Us At Our Customer Care Number Is 01733001160 Or 01733001162 (Everyday 9 Am To 11 Am) Or E-Mail Us At [email protected]

Vendor Information

  • Store Name: R E Collection
  • Vendor: R E Collection
  • Address: Dhaka
  • No ratings found yet!

Questions and answers of the customers

There are no questions yet, be the first to ask something for this product.